চৈতালিকরূমান 11/1/2025

এক সকালবেলা এক ভদ্রমহিলা তার ছোট ছেলেকে ভর্তি করাতে স্কুলে গেছেন।
অ্যাডমিশন ফর্মে নানা তথ্যের মধ্যে একটা ঘর লেখা:
“অভিভাবকের পেশা”
ভদ্রমহিলা কিছুক্ষণ কলম হাতে নিয়ে ভাবলেন। পাশে বসা অফিসার হাসতে হাসতে বললেন,
“ম্যাডাম, লিখে দিন ‘গৃহিণী’। বেশিরভাগ মা-ই তো তাই লেখেন।”
মহিলা কিছু না বলে ফর্মটা রেখে শান্তভাবে বললেন,
“আসলে আমি শুধুই গৃহিণী নই।”
অফিসার একটু অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন,
“তাহলে কী লিখব?”
মহিলা মৃদু হেসে বললেন,
“লিখে দিন, আমি একজন পূর্ণকালীন গবেষক ও নির্মাতা।
আমি ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তুলি।
প্রতিদিন নানারকম জটিল মানসিক ও শারীরিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করি।
একসাথে একাধিক ‘প্রজেক্ট’ সামলাই, বাচ্চার পড়াশোনা, পরিবারের স্বাস্থ্যের যত্ন, নৈতিকতা ও মূল্যবোধের শিক্ষা।”
অফিসার হতভম্ব হয়ে গেলেন।
“গবেষক? নির্মাতা? শুনে তো মনে হচ্ছে বড় কোনো সংস্থার কাজ করছেন!”
মহিলা হেসে বললেন,
হ্যাঁ, আমি বিশ্বের সবচেয়ে পুরোনো ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে কাজ করি,
যার নাম পরিবার।
আমার কাজের সময় ২৪ ঘণ্টা, কোনো ছুটি নেই।
আমার বেতন হলো পরিবারের মানুষের হাসি আর শান্তি।”
অফিসার নীরব হয়ে গেলেন। তার চোখের সামনে ভেসে উঠল নিজের মায়ের মুখ।
হঠাৎ যেন বুঝতে পারলেন,
যে মানুষটিকে তিনি সারাজীবন শুধু “গৃহিণী” বলে জেনেছিলেন,
তিনি-ই ছিলেন সবচেয়ে দক্ষ শিক্ষক, চিকিৎসক, পরামর্শদাতা আর গবেষক।
অফিসার ধীরে ধীরে ফর্মের সেই ঘরে লিখলেন,
“পেশা: মা”
ফর্মটা ফেরত দিতে দিতে তিনি বললেন,
“ম্যাডাম, আজ আপনাকে দেখে বুঝলাম—মা হওয়াটাই সবচেয়ে মহৎ পেশা।”