By চৈতালিক রূমান

এক দুপুরে অফিসের ক্যাফেটেরিয়াতে কয়েকজন সহকর্মী আড্ডা দিচ্ছিলেন। আলোচনার এক পর্যায়ে,
বিষয়টা হঠাৎ ঘুরে গেল. “কাজ ছাড়া আমাদের আর কী পরিচয়?”
একজন তরুণ সহকর্মী হেসে জিজ্ঞেস করল,
“আপনারা নিজের পেশা নিয়ে গর্ববোধ করেন তো?”
সবাই হাসল, কেউ বলল ‘ইঞ্জিনিয়ার’, কেউ বলল ‘ম্যানেজার’, কেউ আবার ‘ডেভেলপার’।
কিন্তু এক কোণে বসে থাকা এক সাধারণ পোশাকের মানুষ চুপ করে ছিলেন—মুখে শান্ত হাসি।
তরুণটি তাকিয়ে বলল,
“আপনি কিছু বললেন না। আপনার পেশা কী?”
লোকটি ধীরে তার কফির কাপ টি টেবিলে রাখলেন, তারপর মৃদু গলায় বললেন,
“আমি একজন নির্মাতা। মানুষের ভবিষ্যৎ গড়ি।”
তরুণটি অবাক হয়ে বলল,
“আপনি কি কোনো কনস্ট্রাকশন কোম্পানিতে কাজ করেন?”
লোকটি হেসে মাথা নেড়ে বললেন,
“না, আমি ঘর নামের এক প্রতিষ্ঠানে কাজ করি।
আমার ‘প্রজেক্ট’ হলো আমার সন্তান।
আমি প্রতিদিন ওর স্বপ্নে ইট বসাই, চরিত্রে রঙ করি,
আর তাকে শেখাই কীভাবে ভেঙে না পড়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।”
চুপচাপ ক্যান্টিনের শব্দে মিশে গেল তাঁর কথাগুলো।
সবাই থেমে গেল এক মুহূর্তের জন্য।
তরুণটির চোখে এক ঝলক ভিজে আলো,
সে হঠাৎ যেন দেখতে পেল নিজের বাবাকে,
যিনি সারা জীবন ক্লান্ত মুখে হাসি ধরে রেখেছিলেন,
যিনি নিজের ইচ্ছেগুলো গুটিয়ে রেখে সন্তানদের স্বপ্ন পূরণ করেছেন।
লোকটি উঠে দাঁড়িয়ে বললেন,
“আমার অফিসের পদবি হয়তো ছোট,
কিন্তু আমার জীবনের পদবি “বাবা”
এটাই সবচেয়ে বড় সম্মান।”
সবাই নিরব হয়ে গেল।
কারও মুখে কিছু বলার ছিল না।
শুধু একটা সত্য মৃদু আলো হয়ে ভেসে উঠল,
বাবা হওয়াটাই পৃথিবীর সবচেয়ে নীরব অথচ মহৎ পেশা।